শুক্রবার, সেপ্টেম্বর-০৪, ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননের কিছু খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রাম নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়—ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এমন দাবিকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী একটি খ্রিস্টান শহরের মেয়র এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রোববার (৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি খ্রিস্টান গ্রাম হিজবুল্লাহর প্রভাব ও হামলার আশঙ্কায় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর লেবাননের বিভিন্ন মহলে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিন্ত জবেইল জেলার খ্রিস্টান অধ্যুষিত শহর রমিশ-এর মেয়র হান্না আল-আমিল নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। দক্ষিণ লেবাননের কোনো শহর বা গ্রামের মানুষ কখনোই এমন কোনো আবেদন করেনি।”
হান্না আল-আমিল আরও বলেন, লেবাননের কোনো ভূখণ্ডকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাই দেশটির জনগণের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তার ভাষায়, “এ ধরনের প্রস্তাব শুধু অবাস্তবই নয়, এটি আমাদের জাতীয় চেতনা ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানকার মানুষের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম রয়েছে এবং তারা নিজেদের পরিচয়, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎকে লেবাননের সঙ্গেই অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত মনে করেন। “আমরা লেবাননের মানুষ, আমাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এই দেশকেই ঘিরে,”—বলেন তিনি।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের খ্রিস্টান সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে তাদের স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রাখলেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে তারা সবসময় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি, ফক্স নিউজ।