বুধবার, নভেম্বর-০৪, ২০২৬
ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হলে তা ব্যবহার করবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র গেলে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ভয়াবহ প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হবে। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও দেশটির সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।
রোববার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “আপনারা কি সমস্যা দেখতে চান? শুধু জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যা নয়, প্রাণহানির সমস্যাও? ইরানকে পরমাণু অস্ত্র পেতে দিন, কারণ তারা এটি ব্যবহার করবে।”
হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘র্যাপিড রেসপন্স ৪৭’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পের এ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এমন সম্ভাবনা আছে।” তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তেহরানের সঙ্গে ‘সুন্দর, বড় ও চমৎকার একটি চুক্তি’ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়
ইরান চুক্তিতে সম্মত হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা কি চুক্তিটি মেনে চলবে?”
ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান নীতিগত অবস্থান। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র পেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করবে।
সামরিক পদক্ষেপ নাকি কূটনৈতিক সমঝোতা?
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবং সংকটের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ট্রাম্পের এ বক্তব্য সামনে এলো। এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে ‘আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি’ অভিযানের সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন ট্রাম্প। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বললেও তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার পথ খোলা রেখেছেন তিনি। ফলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সামরিক সংঘাতের দিকে এগোবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতায় গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।