শুক্রবার, সেপ্টেম্বর-০৪, ২০২৬
৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন সময়কে হার মানিয়ে চলেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছে, তিনি যেন এখনও ক্যারিয়ারের সেরা সময়েই আছেন। পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আবারও প্রমাণ করেছেন, বয়স তার কাছে শুধুই একটি সংখ্যা।
স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও মেসির ফিটনেস ও ক্ষিপ্রতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তার মতে, বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য মেসি অনুপ্রেরণার এক অনন্য উদাহরণ। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং পেশাদার মানসিকতাই তাকে এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকিয়ে রেখেছে।
অনেকেই ভেবেছিলেন, ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে মেসির ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মেজর লিগ সকারে নিয়মিত খেলে, দীর্ঘ ভ্রমণ, কৃত্রিম টার্ফ এবং ভিন্নধর্মী আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েও তিনি নিজের সেরাটা ধরে রেখেছেন। এতে তার পেশাদারিত্ব আরও একবার ফুটে উঠেছে।
ইন্টার মায়ামিতে তার সতীর্থ সের্হিও রেগুইলোনও মনে করেন, মেসির বর্তমান পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে মেজর লিগ সকারের প্রতিযোগিতার মান অনেক উন্নত এবং চ্যালেঞ্জিং।
মেসির এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি। পরিবার, ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা দল এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত সহযোগিতায় তিনি মাঠের বাইরের সব ধরনের চাপ থেকে দূরে থাকেন। পাশাপাশি পরিকল্পিত প্রাক-মৌসুম অনুশীলন, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তাকে সর্বোচ্চ শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
তার শারীরিক সক্ষমতার অন্যতম প্রমাণ দৌড়ের গতি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা–র তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মেসির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ কিলোমিটার। এবারের বিশ্বকাপে তিনি ঘণ্টায় ৩০ দশমিক ৯ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন, যা ৩৯ বছর বয়সী একজন ফুটবলারের জন্য অসাধারণ অর্জন।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির মতে, মেসি এখন নিজের সামর্থ্যকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করছেন। প্রয়োজনের মুহূর্তে তিনি এখনও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং সুযোগ পেলেই ভয়ংকর রূপ ধারণ করেন।
মেসির এমন ফর্ম দেখে এখন ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন প্রশ্ন—তিনি কি ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেও খেলবেন? তখন তার বয়স হবে ৪৩ বছর। বিষয়টি কঠিন হলেও বর্তমান ফিটনেস, পারফরম্যান্স এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে অনেকেই মনে করছেন, অসম্ভব বলে কিছু নেই।
অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেসির নিজের। তবে যতদিন তিনি মাঠে থাকবেন, ফুটবলপ্রেমীরা তার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাইবেন। কারণ লিওনেল মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল কিংবদন্তি।
সূত্র: মার্কা