চলতি বছরই দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা শেখ হাসিনা’র

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     28-06-2026    130
চলতি বছরই দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা শেখ হাসিনা’র

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রায় দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণহত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণাসহ শতাধিক মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও চলতি বছরই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি এ বছরই বাংলাদেশে ফিরবেন।

রোববার (২৮ জুন) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান তুলে ধরে শেখ হাসিনা এ কথা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি কখনো ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি; বরং বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতি করে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা-মা ও ভাইসহ প্রায় পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। অসংখ্য ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাই স্পষ্ট করে বলতে চাই, সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে এ বছরই আমি দেশে ফিরব।”

নিজের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলার মাটি, মানুষ, ইতিহাস ও জাতিসত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ৭৭ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটি বহুবার হামলা, রক্তপাত ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে না; জনগণের সমর্থনই দলটির প্রধান শক্তি।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। তবে মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও হাজারো মামলার প্রসঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন কোনো সরকারের দয়া বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না; বরং জনগণের ওপরই নির্ভরশীল।

তিনি দাবি করেন, দলীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া, রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করা কিংবা নির্বাচনের বাইরে রাখলেও দেশের মানুষের মন থেকে আওয়ামী লীগকে সরিয়ে দেওয়া যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন, যা দলটির পুনর্জাগরণের লক্ষণ।

৫ আগস্টের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ পরিচালিত হয়েছে। তার দাবি, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুর করা হয়েছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, মন্দির, সুফি দরগাহ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সব ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে গোপন যোগাযোগের গুঞ্জনও নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এসব গুজব জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ছড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়; এগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে জানান, আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। জনগণের সমর্থন এবং সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই দলটি ভবিষ্যতে রাজনীতি চালিয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয়-এর আরও খবর