শুক্রবার, সেপ্টেম্বর-০৪, ২০২৬
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয় বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (ইউনেপ) প্রকাশিত ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স ২০২৪’ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ খাদ্যের একটি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে অপচয়ের শিকার হচ্ছে। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গুদাম ও সাইলোতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে আগের তুলনায় অপচয় ও ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউনেপের প্রতিবেদনে উল্লেখিত ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় দেশের সামগ্রিক চিত্রকে নির্দেশ করে। এতে উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিপণন এবং ভোক্তা পর্যায়ের অপচয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়। পরে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সরকারি বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিমাণ খাদ্যশস্যের ক্ষয়ক্ষতি বা অপচয় ঘটে।
তবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সাইলো ও খাদ্যগুদাম নির্মাণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অংশীজনদের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যশস্যের অপচয় ক্রমান্বয়ে কমে আসছে বলে জানান তিনি।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সংসদে দেওয়া তথ্যে বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন, যা মোট সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের মাত্র শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ।
অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অপচয় ও ঘাটতির পরিমাণ কমে ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে, যা শতকরা হিসেবে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের তুলনায় সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায় অপচয়ের হার আরও কমেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য অপচয় রোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা—সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। খাদ্যের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে অপচয় কমিয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য অপচয় কমানো গেলে একদিকে যেমন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদনের ওপর অতিরিক্ত চাপও হ্রাস পাবে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: জাতীয় সংসদ অধিবেশন