চুরি হয়ে গেছে ব্যাংকিং খাতের ৫ লক্ষ কোটি টাকা: গভর্নর

  নিজস্ব প্রতিবেদক | দেশ পত্রিকা     24-05-2026    75
চুরি হয়ে গেছে ব্যাংকিং খাতের ৫ লক্ষ কোটি টাকা: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে এসে পৌঁছেছি, যখন দেশের ব্যাংক খাত থেকে ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে। এ খাতের এক-তৃতীয়াংশ টাকাই এখন আর নেই, যেটাকে আমরা মার্জিত ভাষায় ‘এনপিএল’ বা খেলাপি ঋণ বলছি। চুরি হয়ে যাওয়া এই ঋণের বিপরীতে কোনো জামানতও রাখা হয়নি এবং এসব অর্থের অধিকাংশই দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে।’ গতকাল শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের চতুর্দশ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন মোস্তাকুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তোলা, বন্ধ কারখানা চালু এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এদিন তিনি ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। একই সাথে দেশের বিরাজমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও এই প্যাকেজ ঘোষণার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

অর্থ পাচারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, ফেরত আনা সময়সাপেক্ষ দেশের বর্তমান আর্থিক খাতের চাপ এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট নিয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, আমাদের আর্থিক খাত বেশ চাপে আছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গেছে, পাচার হয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ টাকা। ফলে আমানতকারীদের আস্থা অনেকখানি কমে গিয়েছিল; আমরা এখন সেই আস্থা ফেরানোর কাজ করছি। পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার করা বেশ সময়সাপেক্ষ বিষয়। তবে অর্থ ফেরত আনাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

খেলাপি হওয়া ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ১০০ টাকা নিয়েছে, তার কাছে কিন্তু এখন ১০০ টাকা নেই। আমরা এখন সবদিক বিবেচনা করে কাজ করছি, কীভাবে এই টাকা আদায় করা যায়।

৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজে নতুন আশা:

ঘোষিত নতুন প্রণোদনা প্যাকেজটি দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন গভর্নর।

অতীতের নানা অনিয়ম ও ব্যর্থতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের খুব একটা ভালো নয়, এটা সত্যি। তবে আমরা এবার অত্যন্ত আশাবাদী। এবারের প্যাকেজটি চূড়ান্ত করার আগে আমরা দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ, ব্যবসায়ী নেতা এবং ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। পুরো প্যাকেজটি সেভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে অতীতের মতো কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

জাতীয়-এর আরও খবর