শুক্রবার, সেপ্টেম্বর-০৪, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার কোনো অভিপ্রায় বর্তমান সরকারের নেই। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, সরকার অতীতেও ধর্মের নামে রাজনীতি করেনি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো পথ অনুসরণ করবে না।
বৌদ্ধ নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মানবিক সমাজ ও ধর্মীয় দর্শন
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গৌতম বুদ্ধের কালজয়ী ‘পঞ্চশীল নীতির’ উদাহরণ টেনে বলেন, “পৃথিবীর সব ধর্মই মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান জানায়। গৌতম বুদ্ধের নীতিতে হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে বিরত থাকার যে নির্দেশনা রয়েছে, তা প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য।” তিনি বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি নাগরিকরা যদি নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান যথাযথভাবে মেনে চলেন, তবে একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব।
‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার’
সরকারের নিরাপত্তা নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার হলো দল-মত এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার’—এই মূলনীতিকে সামনে রেখেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশ এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা বজায় রাখবে যেখানে প্রতিটি মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবে।
জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের ত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মুক্তি সংগ্রামে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। তাই বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। প্রত্যেক নাগরিক এ দেশের সমান অংশীদার।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দেশের সব ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে। তাই কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ মনে না করে সবাইকে গর্বিত নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।